অনলাইন ডেস্ক
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ প্রিন্ট ৪৭ বার পঠিত
সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) জনতা ব্যাংকের চারটি শাখার কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত ঠেকাতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ চেয়েছে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় সংকট সমাধানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মধ্যে জরুরি বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. ফজলুর রহমান।
সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারকের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি এ বৈঠক আহ্বানের অনুরোধ জানান। এতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, অর্থ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশের দূতাবাস এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
চিঠি অনুযায়ী, ইউএইর কেন্দ্রীয় ব্যাংক (সিবিইউএই) গত ৮ অক্টোবর থেকে জনতা ব্যাংকের কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া তদারকির জন্য নিরীক্ষা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ক্রো ইউএইকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।
ইউএইর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধনের শর্ত পূরণ করতে না পারায় জনতা ব্যাংকের কার্যক্রম বন্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ২০২১ সালে দেশটির নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিদেশি ব্যাংকগুলোর জন্য ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধনের শর্ত ৪ কোটি দিরহাম থেকে বাড়িয়ে ৪০ কোটি দিরহাম করে।
জনতা ব্যাংকের ইউএই কার্যক্রমের পরিশোধিত মূলধন ছিল ১০ কোটি দিরহাম। এর সঙ্গে ৮ কোটি ৩০ লাখ দিরহাম অবণ্টিত মুনাফা যোগ করেও নির্ধারিত মূলধনের ঘাটতি পূরণ হয়নি।
গত ৮ জুলাই ইউএইর কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেখানে জনতা ব্যাংকের হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলন ও স্থানান্তরে বিধিনিষেধ আরোপ করে। ১৫ জুলাই ব্যাংকটিকে সর্বোচ্চ তিন বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নতুন গ্রাহক গ্রহণ ও নতুন হিসাব খোলা বন্ধ এবং বিদ্যমান দায় পরিশোধের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়।
পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ সরকার ও জনতা ব্যাংক অতিরিক্ত মূলধন জোগাড়ের উদ্যোগ নিলেও তাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়নি। ব্যাংকটি ৩০ কোটি দিরহাম, যা প্রায় ৮ কোটি ১৬ লাখ ৮০ হাজার ডলারের সমপরিমাণ, পাঠালেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা অর্থটিকে মূলধন হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। প্রয়োজনীয় বিধিবিধান অনুসরণ না করার কারণ দেখিয়ে কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়।
জনতা ব্যাংক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ইউএইর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় অর্থটি নিউইয়র্কে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে জনতা ব্যাংকের নস্ট্রো হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওই অর্থ অন্য কোনো কাজে ব্যবহার না করতে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ট্রেজারি বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত ১৮ আগস্ট সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহকারী গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ ছাড়া কার্যক্রম চালু রাখা এবং প্রতিটি শাখার ন্যূনতম মূলধন নিশ্চিত করতে ২০০ কোটি দিরহাম মূলধনের প্রতিশ্রাবও দিয়েছিল জনতা ব্যাংক। তবে এসব উদ্যোগেও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অবস্থান বদলায়নি।
জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যানের চিঠি অনুযায়ী, ইউএইতে ব্যাংকটির চারটি শাখা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের মাধ্যমে প্রায় ৭০ হাজার আমানতকারী, ৩ হাজার ৮০০ ঋণগ্রহীতা এবং প্রায় ১০ লাখ প্রবাসী রেমিট্যান্স প্রেরক সেবা নিয়ে থাকেন।
ব্যাংকটির মাধ্যমে দেশটি থেকে বছরে আনুমানিক ৮০০ কোটি থেকে ১ হাজার কোটি টাকা রেমিট্যান্স আসে বাংলাদেশে। শাখাগুলো বন্ধ হয়ে গেলে প্রবাসীদের ব্যাংকিং সেবা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবাহেও প্রভাব পড়তে পারে।
১৯৭৪ সাল থেকে ইউএইতে কার্যক্রম পরিচালনা করছে জনতা ব্যাংক। দীর্ঘদিনের এ কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় গ্রাহকদের আমানত ও ঋণ নিষ্পত্তি, কর্মীদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত এবং বিভিন্ন চুক্তি বাতিলের ব্যয় সামলানোর মতো বিষয়ও রয়েছে।
সরকারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের প্রস্তাবের মাধ্যমে এসব জটিলতা নিরসন এবং ইউএইতে ব্যাংকটির কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন সমাধান খুঁজতে চাইছে জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। তবে শেষ পর্যন্ত কার্যক্রম চালু রাখা সম্ভব হবে কি না, তা নির্ভর করছে ইউএইর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রক সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আলোচনার অগ্রগতির ওপর।
Posted ১২:১৯ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | Animator Alif
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com
✎ মন্তব্য করুন